1. admin@amarsongbad24.com : admin :
  2. zihadononto15@gmail.com : Zihad Hokkani : Zihad Hokkani
গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্রের নামে মামলা - AMAR SONGBAD 24
সোমবার, ২৪ জুন ২০২৪, ০১:৫৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পলাশবাড়ীতে খাদ্য গুদামে চাল-গম আত্মসাতের ঘটনায় শ্রমিকদের সংবাদ সম্মেলন পাউবোর সরকারি গাড়ি চাপায় বৃদ্ধা নিহতের ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানায় মামলা, চালক আটক এক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহমুদ মিয়া অপর বিদ্যালয়ে সভাপতি, নানা অনিয়মের অভিযোগ! গাইবান্ধায় প্রকৌশলী কল্যাণ সংস্থার উদ্যোগে বিশুদ্ধ ঠান্ডা খাবার স্যালাইন পানি বিতরণ জুয়া বসানোর অভিযোগে সাদুল্লাপুরে ইউপি মেম্বার আল-আমিনের বিরুদ্ধে মামলা! (ভিডিও ভাইরাল) সুন্দরগঞ্জের চরাঞ্চলে কর্মোক্ষম মানুষের মধ্যে খাদ্য সামগ্রী  বিতরণ ভিজিএফের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ সাংবাদিককে লাঞ্চিত করলেন মেয়র সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবে আলোচনা দোয়া ও ইফতার  সুন্দরগঞ্জে বারো জুয়াড়িসহ গ্রেফতার-১৩ সুন্দরগঞ্জে জমি নিয়ে সংঘর্ষে নিহত এক, গ্রেফতার দুই

গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্রের নামে মামলা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি :
  • প্রকাশের সময়: শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩
  • ১০১
গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্রের নামে মামলা
গাইবান্ধা সদর উপজেলা চেয়ারম্যানের পুত্রের নামে মামলা
ঢাকায় রুম ভাড়া নিয়ে থাকাকালীন সময়ের টাকার হিসেব চাওয়ার দ্বন্দে রুমমেট জাহিদ পারভেজ জনি চৌধুরীকে (২৬) দলবল নিয়ে এলোপাথারিভাবে পিটিয়েছে গাইবান্ধা সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীরের ছেলে শাহ্ ছিরাতী মাজহাব ওরফে অরন্য (২৭)। ধরে নিয়ে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে দুই ঘন্টা ধরে অন্তত ১১ জন মিলে নির্যাতন চালানো হয়। গুরুত্বর আহত পারভেজ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে তিনদিন ভর্তি থেকে চিকিৎসা শেষে বর্তমানে  বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন । এ নিয়ে পারভেজের উপর একই জেরে দুই দফায় হামলা চালানো হলো।
এ ঘটনায় শুক্রবার(৭ জুলাই) দিবাগত রাতে চেয়ারম্যানের ছেলে অরণ্যকে প্রধান আসামি করে ছয়জন নামীয়সহ অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসি হামলা ও হত্যার চেষ্টার অভিযোগে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর -১১
এরআগে গত ২৯ জুন (ঈদের দিন) রাত নয়টার দিকে শহরের দাস বেকারিমোড় এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। ওইদিন থেকেই পারভেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। আহত পারভেজ গাইবান্ধা ডেভিড কোম্পানীপাড়ার মৃত আব্দুল হালিম চৌধুরীর ছেলে। চেয়ারম্যানের ছেলে অরণ্য ও পারভেজ একে অপরের রুমমেট। তারা ঢাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে দেড় বছর ধরে একসাথে থাকতেন।
মামলার অন্য অভিযুক্তরা হলেন, একই এলাকার নান্নু মিয়ার ছেলে সুজন মিয়া (২৫), মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আসিফ মিয়া (২৪), রন্জু মিয়ার ছেলে জীবন (২৩), নজরুল ইসলামের ছেলে সাগর মিয়া (২৫) ও জুয়েল (২২)।
মামলার এজাহারে বলা হয়, হামলার শিকার পারভেজ ও  চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীরের ছেলে শাহ্ ছিরাতী মাজহাব ওরফে অরণ্য ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একিই বাসায় একটি রুম ভাড়া নিয়ে থাকতেন। ওই রুমে আবির নামের আরো এক রুমমেট থাকতেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে রুমের ভাড়ার গত কয়েক মাসের হিসেব নিকেশে বেশ গড়মিল পাওয়া যায়। পরে অরণ্যের কাছে হিসেব জানতে চায় পারভেজ। এতেই ক্ষিপ্ত হয় অরণ্য। “শালা তোর এতো বড় সাহস যে, তুই আমার কাছে হিসাব চাস” এবং ওই মূহুর্তেই বাসা ছেড়ে দিতে হুমকি দেয় অরণ্য। এমন আচরণের প্রতিবাদ করায় তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে অরণ্য টিপ ছুড়ি দিয়ে পারভেজের বুকে আঘাত করার চেষ্টা করে। এসময় পারভেজ হাত দিয়ে আটকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তার হাতের কবজি এবং আংগুলের অগ্রভাগের মাঝামাঝি স্থানে মারাত্বক ভাবে কেটে যায় এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে রক্তাক্ত হাত নিয়ে রাজধানীর এভার কেয়ার হাসপাতালের উদ্দেশ্যে দৌঁড়াতে দৌঁড়াতে মোবাইল ফোনে রুমমেটে আবির ও পরিচিত এক বড় ভাই শাহরিয়ারকে ডেকে নিয়ে তাদের সহায়তায় এভার কেয়ার হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা নেয়। পরদিন তাদের পরামর্শে শেরে-ই-বাংলা নগর, ঢাকা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এ ভর্তি হন পারভেজ। এঘটনার পরে ওই বাসাও (রুম) ছেড়ে দেয়।
একই জেরে ওই সময়েই চেয়ারম্যান পুত্র অভিযুক্ত অরণ্য-পারভেজের ব্যবহার করা  ১০০ সিসির মোটর বাইক (যাহার রেজিঃ নং- ঢাকা মেট্রো হ- ৬১-২৯০৫, চেসিস নং- ৬২৫ এম এফ৫৩জে১ ডি০৪৮৩৮, ইঞ্জিন নম্বর- সিএফও ডিজে ১৬০০৩৭১) আটক করে। পরবর্তীতে বাইকটি চাইতে গেলে অরণ্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে পারভেজ চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতে এসে বিষয়টি পারিবারিকভাবেও আপোষ করার চেষ্টা করে ব্যর্থ এবং গত ২০ মে ঢাকার ভাটারা থানায় অরণ্যের বিরুদ্ধে এজাহার দায়ের করলে উদ্ধার হয় পারভেজের বাইক।
পরবর্তীতে ঈদুল আযহা উপলক্ষে ছুটিতে বাড়িতে আসে পারভেজ। সেই জের ধরেই ২৯ জুন রাত নয়টার দিকে দ্বিতীয় দফায় অরণ্য দলবল নিয়ে শহরের দাস বেকারিমোড়ে পারভেজের পথরোধ করে। অরণ্যের আদেশে অরণ্যসহ সুজন, আসিফ, জীবন, সাগর ও জুয়েল পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক দেশীয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি মারতে থাকে। ক্ষোভ না মেটায় পারভেজকে টেনে হেচরে নেওয়া হয় ডেভিড কোম্পানীপাড়া ১নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে। সেখানে দুই ঘন্টা আটকে রেখে চালানো হয় নির্যাতন। মারধরের এক পর্যায়ে তাদের ঘুষিতে চোখে রক্ত জমাট বাধলে রুমের মেঝেতে পড়ে গেলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টাও করে অভিযুক্তরা। পরে ঘটনার শোরগোলে আশেপাশের লোকজন আসতে থাকলে অবস্থা বেগতিক দেখে আহত পারভেজকে আবারো টেনে হেচরে অরণ্যের (উপজেলা চেয়ারম্যান শাহ সারোয়ার কবীরের) বাড়িতে নিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পারভেজের স্বজনরা স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ১১ টার দিকে ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।
ঘটনার পর গত ১ জুলাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পারভেজ তার ভাগনী আয়শা সিদ্দিকার মারফত গাইবান্ধা সদর থানায় এজাহার দায়ের করলেও চেয়ারম্যানের ছেলের ঘটনা বলে তদন্তের নামে মামলা রুজু করতে কিছুটা সময় নেয় পুলিশ। পরে শুক্রবার (৭ জুলাই) রাতে মামলা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ওয়াহেদুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলা নং-১১। আসামীদের গ্রেফতারে পুলিশ কাজ করছে।
More News Of This Category
All Rights Reserved © 2023 Amar Songbad
Developed By :: Sky Host BD